বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে সেমিনার আয়োজন।


প্রকাশন তারিখ : 2019-08-31

    

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও শোষণমুক্ত পৃথিবী গঠনের দার্শনিক ভাবনা শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহায়ক, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিবিডি) ও বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব ওয়ালিউর রহমান। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ, এমপি। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ।  

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার গর্বিত নাগরিক আমরা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে আজকে আমরা আয়োজন করেছি ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও শোষণমুক্ত পৃথিবী গঠনের দার্শনিক ভাবনা শীর্ষক সেমিনার। আজকের সেমিনারের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার দার্শনিক চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অনেক জানা-অজানা কথা জানতে পারব।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে জনাব ওয়ালিউর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৭৪ সাল; জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শান্তির বার্তা নিয়ে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ব কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার। প্রথমত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয়ত ভিচি সরকার, তৃতীয়ত আলজেরিয়ার যুদ্ধ, চতুর্থত ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পঞ্চমত শীতলযুদ্ধ। বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বিশ্বনেতারা তাকিয়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর দিকে। তিনি শুধু মাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রতিনিধিত্ব করেননি। বিশ্বের সকল অঞ্চলের নিষ্পেষিত মানুষের পক্ষে, নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন বৈষম্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত বিশ্বদারিদ্র্যের কথা। সে সময় বিশ্ব ব্যবস্থার চলমান সমস্যার একটি অর্থনৈতিক কারণ ও বিশ্লেষণ আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাষণে খুঁজে পাই। খুঁজে পাই সমাধানের উপায়ও। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পর্যালোচনায় প্রস্ফুটিত হয় একজন আদর্শ বিশ্বনেতার প্রতিরূপ- একটি নাম, একটি ইতিহাস। ৪৫ বছর পরও আজকের বিশ্ব পরিক্রমায় সে বার্তা প্রাণবন্ত ন্যায়-সংগ্রামের প্রতীকরূপে। বজ্রকন্ঠের সে অমীয় শান্তির বাণী বিশ্ববাসীর জন্য শান্তিপ্রতিষ্ঠার পাঞ্জেরী হয়ে থাকবে জনম জনম ধরে। আর আমরা গর্ব ভরে বলবো, এ-ই আমাদের বঙ্গবন্ধু! এ-ই আমাদের জাতির পিতা! নাম তাঁর শেখ মুজিবুর রহমান।  

সম্মানিত আলোচকের বক্তব্যে প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো ছিল তাঁর দর্শন ও তাঁর আদর্শ। ২৫ সেপ্টেম্বরের ভাষণ ছিল বিশ্বের শোষিত নিষ্পেষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি সামগ্রিক বিশ্বকে তুলে ধরেছিলেন তাঁর মানবতাবাদী কণ্ঠস্বরের মধ্য দিয়ে। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলেছেন, বলেছেন বিশ্ব শান্তির কথা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহব্বান করেছেন। বিশ্ব শান্তির জন্য তাঁর দিকনির্দেশনা ও প্রখর দূরদর্শিতার বৈশিষ্টটি ফুটে উঠেছে তাঁর ভাষণে। নিপিরিত, বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলার মধ্যে তাঁর দার্শনিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, অনেক তাৎপর্যপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে আজকের সেমিনার। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের মতোই আরেকটি ভাষণ ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালের, যেটা হয়েছিলো বিশ্বমঞ্চে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বঙ্গবন্ধু মানবজাতির পার্লামেন্ট বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ব শান্তি ও মানবতা ছিল তার ভাষণের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি মানব মুক্তির কথা বলেন। ঐতিহাসিক এই ভাষণের প্রত্যেকটা কথা ছিল প্রাসঙ্গিক। বাঙালি জাতি ন্যায় বিশ্বের শোষিত, নিপিরিত অধিকার বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছিলেন তাঁর ভাষণের মাধ্যমে। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ, এমপি বলেন, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময় ছিল আমাদের দেশে ও জাতির জন্য ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। বিশ্বের শোষিত মানুষকে নিয়ে তিনি ভাবতেন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। সর্বোপরি পৃথিবীর মানুষের শান্তির কথা বলতেন। আজকে আমাদের দেশের যে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে তাঁর মূলে রয়েছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু।

সভাপতিত্ব বক্তব্যে জনাব মো. রিয়াজ আহম্মদ বলেন, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা যখন জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন সারা বাংলাদেশ গর্বিত হয়ে উঠেছিলো। ভাষণে তিনি তাঁর দেশ ও তাঁর জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, দৃঢ়তা এবং প্রত্যয়ের কথা সকলকে শুনিয়ে এই জাতিকে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছিলেন। তিনি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে ছিলেন। বাঙালির প্রেরণার নাম তিনি। এজন্য বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক, আদর্শ, মতাদর্শন ইত্যাদি আগামী প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। 


Share with :

Facebook Facebook