বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ মে ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ‘বহুমাত্রিক হুমায়ুন আজাদ ও তাঁর কবিতা’ শীর্ষক সেমিনার।


প্রকাশন তারিখ : 2019-04-29

    

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল ২০১৯। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বহুমাত্রিক হুমায়ুন আজাদ ও তাঁর কবিতা শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন কবিকন্যা জনাব মৌলি আজাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবাইয়াৎ ফেরদৌস। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান

স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্ম বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে ১৪ জন বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের জন্ম/মৃত্যু বার্ষিকী পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছে। সেই সেমিনারমালার অংশ হিসেবে আজ আমরা আয়োজন করেছি হুমায়ুন আজাদ স্মরণেবহুমাত্রিক হুমায়ুন আজাদ ও তাঁর কবিতা’ শীর্ষক সেমিনারআমরা মনে করি আজকের আয়োজন আপনাদের সকলের বিশেষ করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং হুমায়ুন আজাদ সম্পর্কে জানা- অজানা অনেক কথা জানতে পারবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একজন প্রথাবিরোধী ও বহুমাত্রিক মননশীল লেখক। তিনি কবিতা লেখার শুরু করেন ষাটের দশকের শেষের দিক থেকে। প্রথম বইতেই তাঁর পাকা হাতের স্বাক্ষর লক্ষ্য করা যায়। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৬০টির বেশি। এর মধ্যে ১০টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ২২টি সমালোচনা গ্রন্থ, ৮টি কিশোরসাহিত্য, ৭টি ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তিনি নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ই কবিতাচর্চা শুরু করেন। তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল দৈনিক ইত্তেফাকের শিশুপাতা কচিকাঁচার আসরে। ১৯৯২ সালে নারীবাদী গবেষণামূলক গ্রন্থ নারী প্রকাশ করে গোটা দেশে সাড়া তোলেন। যদিও বইটি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। এ গ্রন্থ তার বহুল আলোচিত গবেষণামূলক কাজ হিসেবেও স্বীকৃত। জীবনের শেষার্ধে অকুতোভয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা, সামরিক শাসনের বিরোধিতা, নারীবাদী বক্তব্য এবং একই সঙ্গে নিঃসংকোচ যৌনবাদিতার জন্য তিনি ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আলোচনায় অধ্যাপক জনাব মৌলি আজাদ তিনি তাঁর বাবার ব্যক্তি জীবন নিয়ে কথা বলেন। স্মৃতিচারণ করেন তাঁর বাবার সাথে কাটানো সময়গুলোকে। তিনি বলেন, আমার বাবা ছিলেন অনেক দায়িত্বশীল একজন মানুষ। সবসময় যুক্তি দিয়ে কথা বলতেন। বাবার মতো সাহসী ও ঠোঁটকাটা মাণূষ আমি দ্বিতীয় দেখিনি। তিনি যা বলতেন সম্মুখে বলতেন, উচিত কথা বলতেন। বাবা বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন। অসংখ্য কবিতার বই ছিল বাবার সংগ্রহে। বাবার কবিতার মধ্যেই বাবাকে এখনও আমি খুঁজে পাই।

অধ্যাপক রুবাইয়াৎ ফেরদৌস বলেন, হুমায়ুন আজাদ বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষ এবং বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে সম্মানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে গেছেন। তিনি আর বলেন, বাঙালির সমাজজীবন, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যগতভাবে অর্জিত সংস্কৃতি, সাহিত্য আর শিল্পের মাধুর্যকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বময়। আজও তিনি অমলিন হয়ে আছেন । কবিতা-গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ-সমালোচনাসহ শিল্পের প্রায় প্রতিটি শাখায় আলো ছড়িয়েছেন তিনি। সেই আলোককণা জাতির অন্ধকার সময়ে এখনো পথ দেখায়, প্রাণিত করে।

সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবন্ধকার ড. সৌমিত্র শেখর কে তাঁর এই অসাধারণ প্রবন্ধের জন্য। কবি ও লেখক হুমায়ুন আজাদ ছিলেন সাহসী ও নির্ভিক কণ্ঠস্বর। তার লেখার ভাষা যেমন ছিল তীক্ষ, সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পস্ট, তেমনি তার আলাপচারিতার ভাষা ও ব্যক্তিত্বও ছিল স্বচ্ছ। তিনি বিশ্বাস করতেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ছাড়া দেশ ও মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে আমৃত্যু তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাংলাদেশের তৈরির জন্য কাজ করে গেছেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপনে মো. আবদুল মজিদ  হুমায়ুন আজাদকে গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।


Share with :

Facebook Facebook